১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
চট্টগ্রাম-১০ আসনে দাঁড়ি পাল্লার সমর্থনে স্বতঃস্ফূর্ত মহিলা মিছিল অন্য দলকে ভোট দিলে ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছারখার করে দিব: হাসনাতের প্রতিদ্বন্দী বিএনপির নেতা মঞ্জু মুন্সি। সাতকানিয়ায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় যৌথবাহিনীর প্রতীকী মহড়া চট্টগ্রাম-৯ আসনে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হকের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বাঁশখালীতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে বিশাল জনসভা কর্নেল অলি পটুয়াখালী শহীদ মিনারে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর শেষ নির্বাচনী বার্তা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। নির্বাচনে ব্লেইম গেম বা নাটকের সুযোগ নেই -চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।  আমি আপনাদের সন্তান নির্বাচনী প্রচারণা শাহজাহান চৌধুরী  চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত
আন্তর্জাতিক:
  • প্রচ্ছদ
  • এক্সক্লুসিভ >> কুড়িগ্রাম >> দেশজুড়ে >> রংপুর >> শীর্ষ সংবাদ >> স্বাস্থ্য
  • বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের ধৃষ্টতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার দাবি
  • বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের ধৃষ্টতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার দাবি

      বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন
    নিজস্ব প্রতিবেদক।।

    রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের আদেশ অমান্য, ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তদন্তের নামে সাংবাদিক ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত প্রধান সহকারী মো. ইউনুছ আলী ও উচ্চমান সহকারী আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও নৈরাজ্যের অভিযোগ ওঠে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে শতাধিক সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের কাছে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বদলির দাবিতে লিখিত আবেদন করেন।

    তবে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাসপাতালজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণ ও হাসপাতালের স্টাফদের চাপের মুখে গত ৮ ডিসেম্বর লালমনিরহাটের সিভিল সার্জনকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ১৭ ডিসেম্বর সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার ফলে হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশে মহাপরিচালক গত ২৪ ডিসেম্বর রংপুর বিভাগীয় পরিচালককে সভাপতি করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি গত ৪ জানুয়ারি সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পরিদর্শনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্তকালে বিভাগীয় পরিচালক দৈনিক দিনকাল-এর কুড়িগ্রাম জেলা স্টাফ রিপোর্টার হারুন উর রশীদ সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশ ও বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া অভিযোগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি ও বদলির হুমকি দিয়ে কোনো প্রকার কার্যকর তদন্ত না করেই কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভোজসভা শেষে তদন্ত দল রংপুরে ফিরে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী, ডা. ওয়াজেদ আলী ও ডা. আসিফ ফেরদৌসকে বিবাদী করে কুড়িগ্রাম সদর থানায় প্রাণনাশ ও অপহরণের হুমকির অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৬। অভিযোগে আরও বলা হয়, রংপুর বিভাগে ৫৮টি উপজেলাসহ মোট ৬৬টি হাসপাতালের টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে ই-জিপি পদ্ধতি উপেক্ষা করে অফলাইনে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা। রংপুর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সালেকুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল মান্নান এক বিবৃতিতে বলেন, বিভাগীয় পরিচালকের এ ধরনের আচরণ ও বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবিলম্বে তাকে বরখাস্তসহ আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    মন্তব্য

    আরও পড়ুন

    You cannot copy content of this page